মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
৫ দিনে চারগুণ বেড়েছে করোনা, জানুন কোন রাজ্যে কত!
অনলাইন ডেস্ক
যেখানে গত ২২ মে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫৭। এই হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী চিত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলো হলো কেরালা, মহারাষ্ট্র ও দিল্লি। রোববার (১ জুন) এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
গণমাধ্যম বলছে, দেশে ফের বাড়ছে কোভিডের প্রকোপ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ৩১ মে পর্যন্ত ভারতে সক্রিয় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৬৮৫ জন।
২২ মে পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫৭, যা ২৬ মে গিয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১০ জনে। তারপর মাত্র পাঁচ দিনেই তা প্রায় চারগুণ হয়ে পৌঁছেছে ৩১ মে-তে ৩ হাজার ৩৯৫-এ।
গণমাধ্যম জানায়, সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার একদিনেই ৬৮৫টি নতুন সংক্রমণ এবং ৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে কেরালায় একাই ১৮৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। রাজ্যটিতে এখন সক্রিয় রোগী সংখ্যা ১ হাজার ৩৩৬ জন।
এছাড়া মহারাষ্ট্রে ৪৬৭, দিল্লিতে ৩৭৫, গুজরাটে ২৬৫, কর্ণাটকে ২৩৪, পশ্চিমবঙ্গে ২০৫, তামিলনাড়ুতে ১৮৫ এবং উত্তরপ্রদেশে ১১৭ জন সক্রিয় রোগী আছেন। পাশাপাশি রাজস্থান (৬০), পুদুচেরি (৪১), হরিয়ানা (২৬), অন্ধ্রপ্রদেশ (১৭) ও মধ্যপ্রদেশে (১৬) সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরে দেশে ২৬ জন কোভিডে প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (আইসিএমআর) জানিয়েছে, পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের নমুনা বিশ্লেষণে ওমিক্রনের একাধিক সাব-ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। আইসিএমআর প্রধান ড. রাজীব বেহেল জানান, এই ভেরিয়েন্টগুলোর কারণেই সংক্রমণ বাড়ছে।
তার মতে, দক্ষিণ ভারত থেকেই সংক্রমণ ছড়ানো শুরু হয়ে এখন তা পশ্চিম ও উত্তর ভারতেও পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি নজরে রাখতে সমন্বিত রোগ নজরদারি কর্মসূচি (আইডিএসপি)-এর মাধ্যমে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
ড. বেহেল আশ্বাস দিয়ে বলেন, বর্তমানে সংক্রমণের তীব্রতা খুবই কম। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, কোভিড পরিস্থিতি মূল্যায়নে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— সংক্রমণের গতি, ভ্যাকসিন বা পূর্ব সংক্রমণের পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারিতা এবং রোগের জটিলতা।
তিনি বলেন, অধিকাংশ রোগীই হালকা উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাই জটিল অবস্থার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে সতর্কতা এবং প্রস্তুতি নেওয়াই এখন সেরা পথ।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যুবরণ করা ৪ জনের মধ্যে দিল্লির ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিউমোনিয়াসহ একাধিক সমস্যায় ভুগছিলেন। কর্ণাটকের ৬৩ বছর বয়সী রোগীর শরীরেও ছিল একাধিক জটিলতা।
কেরালায় মারা যাওয়া ৫৯ বছর বয়সী ব্যক্তিরও ছিল ফুসফুস সংক্রান্ত পুরোনো সমস্যা। উত্তরপ্রদেশে মৃত্যু হয়েছে মাত্র ২৩ বছর বয়সী এক যুবকের। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভারতে কোভিডে মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।